মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

কৃষি তথ্য সার্ভিস

 
 
ইভেন্টস

কৃষকদের সহায়তা আমাদের জাতীয় কর্তব্য: বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
১৩ ডিসেম্বর ২০১৪ খ্রি. শনিবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৯’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার প্রদান করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুরস্কৃতদের অভিনন্দন জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আগামী দিনের কৃষিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিজয়ীগণ আরো উদ্দীপ্ত ও উৎসাহিত হবেন এবং তা অন্যদেরকেও অনুপ্রাণিত করবে। ফলশ্রুতিতে ক্ষুধা, অপুষ্টি ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সহায়ক হবে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিলের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ও মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, এমপি এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, এমপি। পদক বিতরণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষি সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম।

 
কৃষকদের উৎসাহিত করতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকার ১৯৭৩ সালে ‘বঙ্গবন্ধু পুরস্কার তহবিল’ গঠন করার কথা স্মরণ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর ‘বঙ্গবন্ধু পুরস্কার তহবিল’ থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেয়া হয় এবং কৃষি পুরস্কার প্রদানের কার্যক্রমও অনিয়মিত হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে ১৯৯৭ সালে আবারো বঙ্গবন্ধুর নামে এই পুরস্কার চালু করলেও ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট সরকার ক্ষমতায় এসে আবারো এ পুরস্কার থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দেয়। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার তহবিল পুনর্গঠন করে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে ‘বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার’ বিতরণ করছে।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের দায়িত্ব পাওয়ার পর কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাকে সুসংগঠিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রাসায়নিক সার, সেচ, জ্বালানী তেল এবং কৃষি যন্ত্রপাতি সহজলভ্য করার জন্য কৃষিতে বিপুল উন্নয়ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নত জাত ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা সহায়তা প্রদান, ই-কৃষির প্রবর্তন, কৃষি গবেষণায় গুরুত্ব প্রদান, কৃষিক্ষেত্রে জনবল বৃদ্ধি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষ উৎপাদনেও দেশ অনেক দূর এগিয়েছে বলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের কারণে ২০০৬-০৭ অর্থ বছরে খাদ্য শস্যের উৎপাদন ২৭৯.৫৪ লক্ষ মে.টন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে ৩৮৩.৪৩ লক্ষ মে. টনে উন্নীত হয়েছে। এসব উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো চাউল রপ্তানী করতে যাচ্ছে এবং মিঠাপানির মাছ উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ঐতিহাসিক সমুদ্র বিজয়ের ফলে অন্যান্য সমুদ্র সম্পদ আহরণের সাথে সাথে মৎস্য আহরণের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে তিনি জানান। ‘ব্লু ইকোনমি’ এর কথা উল্লেখ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সমুদ্র সম্পদ আহরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তা ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বর্তমান সরকারের কৃষিতে দেয়া ভর্তুকিকে ‘কৃষিতে বিনিয়োগ’ হিসেবে উল্লেখ করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন ‘কৃষকদের সহায়তা আমাদের জাতীয় কর্তব্য’।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরিবেশসম্মত চাষ পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানো, জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানো, পার্চিং, গুটি ইউরিয়া, এডব্লিউডি, ফেরোমোন ফাঁদ, সুষম সারের ব্যবহার, সেচ কাজে পানির অপচয় কমানো ও সৌর বিদ্যুত ব্যবহার, দেশীয় পদ্ধতিতে আলু সংরক্ষণ, ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি চাষসহ আধুনিক লাগসই প্রযুক্তিগুলো কৃষকদের ব্যবহারের জন্য আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি সেচ নির্ভর বোরো ফসলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আউশ ও আমন চাষ বাড়ানোর পরামর্শ প্রদান করেন। শিক্ষিত হয়ে কৃষিকাজকে অবহেলার চোখে না দেখে আরো উদ্যোগী হয়ে কৃষিকাজে আত্মনিয়োগের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আহ্বান জানান। গ্রাম ও কৃষি আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাই একে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাংলাদেশকে বিজয়ী জাতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্রমুক্ত একটি উন্নত দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।
 
মাননীয় কৃষিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, কৃষিকে বাদ দিয়ে সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়- এ সত্য উপলদ্ধি করেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কৃষিতে এ পুরস্কার প্রবর্তন করেন। বর্তমান সরকারের কৃষিবান্ধব কার্যক্রম গ্রহণ, কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করা, কৃষি বিষয়ক কাজে উৎসাহ প্রদান, ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্রদান এবং কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সব রকমের সহায়তা প্রদানের ফলে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কৃষিতে সুষম সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনাসহ নিরাপদ চাষাবাদ বৃদ্ধির ফলে ফসলের রোগবালাই কম হচ্ছে এবং রাসায়নিক বালাইনাশকের ব্যবহারও কমে গেছে বলে মাননীয় কৃষিমন্ত্রী জানান। কৃষিক্ষেত্রে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে কৃষিমন্ত্রী জানান, আগামী দিনের কৃষি হবে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনকে টেকসই করার কৃষি, খোরপোষ কৃষিকে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তর এবং আধুনিক পদ্ধতির উন্নত কৃষি। এ কাঙ্ক্ষিত
লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার বিজয়ীদের আরো উদ্দীপ্ত ও উৎসাহিত করবে বলে প্রত্যাশা করেন।

 
মাননীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, জাতির জনকের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃষকবান্ধব সরকার অর্থনৈতিক উন্নয়নে কৃষিকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার কৃষিতে আরো উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি করে উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে চতুর্থ স্থান দখল করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
কৃষি সচিব ড. এস এম নাজমুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সরকারে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কৃষিখাতকে অধিকতর সমৃদ্ধ করার অভীষ্ট লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে বলে উল্লেখ করেন। কৃষি সচিব জানান, সরকার প্রদত্ত এ পুরস্কার নিবেদিতপ্রাণ কৃষক, কৃষিকর্মী, গবেষক, বিজ্ঞানী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে কৃষি উন্নয়নের কাজে অনুপ্রেরণা যোগাচ্ছে। কৃষি উন্নয়নের মোট ১০টি ক্ষেত্রে অবদান রাখার জন্য এ পদক প্রদান করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
 
উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার কৃষিক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পুরস্কার। কৃষিক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরকার বিভিন্ন ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারে ভূষিত করছে। কৃষি খাতে অসামান্য অবদানের জন্য চলতি বছর ৩০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার প্রদান করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি স্বর্ণ, আটটি রৌপ্য ও ১৭টি ব্রোঞ্জ পদক।
 
স্বর্ণ পদক প্রাপ্তরা হলেন: বান্দরবান সদরের মাসিং নু মার্মা; বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা), ময়মনসিংহ; কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের জনাব মো. সামছুউদ্দিন (কালু); কিশোরগঞ্জ সদরের উপসহকারী কৃষি অফিসার ছাইদুন্নেছা এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়,ময়মনসিংহের জার্মপ্লাজম সেন্টার।
 
রৌপ্য পদক প্রাপ্তরা হলেন: ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর সেনানিবাস মেজর জেনারেল মো. সালাহ্ উদ্দিন মিয়াজী, পিএসসি; ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের মোছা. মর্জিনা বেগম;  দিনাজপুর ফুলবাড়ীর ডা. মো. আনোয়ার হোসেন; খুলনা ডুমুরিয়ার মো. আবু হানিফ মোড়ল; চিটাগাং মেরিডিয়ান এগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লি.; নাটোর সদরের আলহাজ্ব মো. সেলিম রেজা; চট্টগ্রাম বোয়ালখালীর মো. মোজাম্মেল হক এবং গাইবান্ধা পলাশবাড়ীর মো. আব্দুল গফুর।

ব্রোঞ্জ পদক প্রাপ্তরা হলেন: রংপুর পীরগঞ্জের বাঘের বাজার লাইভলি হুড ফিল্ড স্কুল; সাতক্ষীরা শ্যামনগরের মিসেস ফরিদা পারভীন; কুমিল্লা মুরাদনগরের ডা. মানবেন্দ্র নাথ সরকার; কুমিল্লা আদর্শ সদরের মনজুর হোসেন; পাবনা ঈশ্বরদীর আঁখি মনি কৃষি খামার; নওগাঁ সদরের মো. সালাহ্ উদ্দিন উজ্জ্বল; সাতক্ষীরা শ্যামনগরের মিসেস অল্পনা রানী মিস্ত্রী; যশোর কেশবপুরের মিসেস অঞ্জু সরকার; রংপুর সদরের ওহিদ শেখ; মৌলভীবাজার সদরের হুমায়ুন কবীর; নীলফামারী সদরের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাজেন্দ্র নাথ রায়; ফেনী সদরের উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. আজিজুল হক; ময়মনসিংহ ভালুকার ইন্তেখাবুল হামিদ; কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামের উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. জাহেদুল হক; রাঙ্গামাটি সদরের জ্যোতিসার মহাস্থবির; বগুড়া আদমদীঘির আলহাজ্ব বেলাল হোসেন সরদার এবং পাবনা ফরিদপুরের মো. হাফিজুর রহমান।
 
জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করলেন মাননীয় কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী
কৃষি ও কৃষকের আনন্দ বেদনার সারথী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি
কৃষকদের সহায়তা আমাদের জাতীয় কর্তব্য: বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার ১৪১৯ প্রদান অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
সাম্প্রতিক উজানের ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাসমূহে ও দক্ষিণাঞ্চলের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রহণ
‘কৃষি উন্নয়নে যন্ত্রপাতির ব্যবহার, গবেষণা ও সম্প্রসারণের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ করণীয়’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে তুলা উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা ও কৌশল নির্ধারণ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন।
আরও সংবাদ


Share with :

Facebook Twitter